Story
বাঙালি নাকি ব্যবসা করতে পারে না। আর যৌথ ব্যবসা হলে তো সেখানে বাঙালির দেখা পাওয়াই ভার। কিন্তু এই প্রবাদবাক্যটি যে কত বড় ভুল, তা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্ধমানের চণ্ডীমাতা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। দু’দশক আগে পাঁচ-ছ জনের একটি দল পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ তাঁরা স্বনির্ভর তো হয়েছেনই, একইসঙ্গে বেকারদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
বর্ধমানের খানো গ্রামে জলাশয়ের সংখ্যা কম নয়। যেখানে অধিকাংশ পুকুরে আগে মাছ চাষ হত না। সেই পুকুরগুলো সংস্কার করেই মাছ চাষ শুরু করেন তাঁরা। তারপর সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার এই গল্পই শোনালেন চণ্ডীমাতা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য সন্দীপ কেশ।
যত সময় এগিয়েছে ততই শাখা প্রশাখা ছড়িয়েছে ব্যবসা। বর্তমানে এই গোষ্ঠীর পাঁচজনেই যুক্ত হয়েছেন মাছ চাষ, হ্যাচারি এবং মুরগির ফার্মের সঙ্গে। মুরগির ফার্ম এবং হ্যাচারি এই দুটি ক্ষেত্র থেকেও তাঁদের ব্যবসার যথেষ্ট শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে। জীবিকা নির্ধারিত তাই দিন গুজরানেও কোন অসুবিধে হচ্ছেনা।
আজ চণ্ডীমাতা গ্রুপের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা এসে হাজির হন। এই যেমন রাজু বাগদী।
চণ্ডীমাতা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এই উদ্যোগকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন ডিসট্রিক্ট ফিশারি অফিসার সুব্রত রায়। তিনি বলেন,
এখন এই ব্যবসা এতটাই ছড়িয়ে পড়ছে যে তাকে আর পাঁচ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাচ্ছে না। আর যে কারণে বেশ কিছু মানুষের বেকারত্বও দূর হয়েছে। সঙ্গে সুবিধে হয়েছে পুকুর মালিকদেরও। এমনটাই দাবি করছেন সন্দীপ কেশ।
তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য যেমন এগিয়ে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক তেমনই সরকারি আধিকারিক থেকে বিভিন্ন মাছ চাষি, হ্যাচারি মালিকরাও বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। গোষ্ঠীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম আর উদ্যমই চণ্ডীমাতা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে করে তুলেছে ব্যতিক্রমী।
মানিক দাস, বর্ধমান