Story
থাইল্যান্ড। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত যে দেশটির নাম ছিল সায়াম। নীল সমুদ্র, সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা ছোট ছোট পাহাড়, নদী, সারি সারি বৌদ্ধ মন্দির- সব মিলিয়ে টুরিস্ট ডেসটিনেশন হিসেবে থাইল্যান্ড থাকে হিটলিস্টে। এই দেশটির সিংহভাগ মানুষের প্রধান ধর্ম বৌদ্ধ। মূলত কৃষি নির্ভর দেশ হলেও থাইল্যান্ডের অর্থনীতির হাল ধরে এখানকার ট্যুরিজম। চোখ ধাঁধানো মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে ব্যাংকক বা পাটায়ার মত আধুনিক শহরের পরিবেশ উপভোগ করতে কে না চায়? তাই থাইল্যান্ডের জনপ্রিয়তা গ্লোবাল হলিডে ডেসটিনেশন হিসেবে সবসময় থাকে উপরের দিকে।
থাইল্যান্ড বললে প্রথমেই পর্যটনপ্রেমীরা যে যে জায়গাগুলো সবচেয়ে বেশি ঘুরে আসতে পছন্দ করেন, সেগুলি হল ব্যাংকক, ফুকেত, ক্র্যাবি আইল্যান্ড, পাটায়া, আয়ুথায়ার মত একাধিক হটস্পট। একদিকে নীল জলরাশি, অন্যদিকে সুদীর্ঘ লম্বা, লম্বা সী বিচ। অন্যদিকে ঝাঁ চকচকে শহর- যেখানে আধুনিকতার হাওয়া পরতে পরতে আপনিও উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও থাইল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় স্পট হল ছাটুছাক উইকএন্ড মার্কেট। শহরের একেবারে মধ্যিখানে অবস্থিত এই মার্কেটটিকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় উইকএন্ড মার্কেট। যেখানে আলপিন থেকে এলিফ্যান্ট সবই পাবেন এখানে। সবমিলিয়ে প্রকৃতি এবং আধুনিকতার দুর্দান্ত মেলবন্ধনে থাইল্যান্ড আজ পর্যটন ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছে ভালোরকম। তাই থাইল্যান্ডের পর্যটন ব্যবসা যে থাই ইকোনমির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ , সে কথা বলাই যায়।
থাইল্যান্ডের টাকা হচ্ছে ভাট। ভারতীয় এক টাকা মানে থাইল্যান্ডের আড়াই টাকারও কম। তাই ভারতীয়দের কাছেও যে থাইল্যান্ড খুব বিলাসবহুল ভ্রমণের জায়গা এমনটা কিন্তু বলা যায় না। যে কারণে প্রতিবছর বহু ভারতীয় ছুটি কাটাতে পারি দেন এই দেশটিতে। একটি তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে ১.৯ মিলিয়ন ভারতীয়র পা পড়েছিল থাইল্যান্ডে। ২০১৮ সালের থেকে এই সংখ্যাটা ছিল ২২% বেশি। আর গোটা বিশ্ব থেকে থাইল্যান্ড ভ্রমণে এসেছিলেন প্রায় ৪০ মিলিয়ন মানুষ। এটা সত্যি যে থাইল্যান্ডের জিডিপি বিদেশি পর্যটকদের উপরে অনেকটা নির্ভর করলেও ডোমেস্টিক ভ্রমণেও কিন্তু থাইল্যান্ড উল্লেখযোগ্য ছাপ রাখার চেষ্টা করছে। আর যে কারণে মনে করা হচ্ছে করোনা ধাক্কায় থাইল্যান্ডের ট্যুরিজম সেক্টরে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে সেটা মেরামতি হতে সময় লাগবে একটু। ২০২০ সালে যখন করোনাতঙ্কে গোটা বিশ্ব থরথর করে কাঁপছে, তখন থাইল্যান্ডে সেই বছর নভেম্বর পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল ৪ হাজারের নিচে। যে কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবসায় থাইল্যান্ড ভয়াবহ মার খেলে সরকার ডোমেস্টিক ট্যুরিজমের দিকে বিশেষ নজর দেয়। ফলও পায় ভালো। ২০২১ সালে দেখা যায় থাই রাজকোষে ঢুকেছে ১ বিলিয়ন ডলার। ট্যুরিজম অথোরিটি অফ থাইল্যান্ডের একটি সূত্র বলছে, ২০১৬ সালে পর্যটন ব্যবসা থেকে থাইল্যান্ডের রাজকোষে ঢোকে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০১৭ সালে সেটাই ছাড়িয়ে যায় ৭৮ বিলিয়ন ডলার। চিন ছাড়া থাইল্যান্ডে ঘুরতে আসেন রাশিয়ান, ব্রিটিশ অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকা থেকে বহু মানুষ। মূলত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাইল্যান্ডে পর্যটকদের পা পড়ে সবচেয়ে বেশি।
একটি তথ্য বলছে ২০১৯ সালে মাষ্টারকার্ডের লিস্টে ব্যাংককের ভির ছাপিয়ে যায় প্যারিস বা লন্ডনকেও। ফুকেত এবং পাটায়ায় ভির জমান সবচেয়ে বেশি মানুষ। করোনা আসার আগে পর্যন্ত থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা প্রতি বছর বেড়েই যাচ্ছিল। কিন্তু অতিমারির ঢেউ আসায় থাইল্যান্ডের পর্যটনব্যবসা বেশ সংশয়ের মধ্যে পড়ে। এমনিতেই এই দেশটিতে বেকারত্বের হার থাকে নিচের দিকেই। কারণ অধিকাংশ মানুষই যুক্ত থাকেন কৃষিকাজ এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে। দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির হাওয়া লাগলেও দেশটি নিজেকে সবদিক থেকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করে। আর যে কারণে থাই সরকার বিদেশি পর্যটকদের নিয়ে আসার জন্য ভালোরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। গ্লোবাল ট্যুরিজম স্ট্র্যাটেজি, মিনিমাম চার্জের মত একাধিক পদক্ষেপ নিলেও থাইল্যান্ডে পর্যটন ব্যবসার উজ্জ্বল ছবিটা ফিরতে সময় লাগবে ২০২৪ পর্যন্ত। তাই পর্যটন ব্যবসায় অক্সিজেন জোগাতে তসে দেশের সরকার বেশ মরিয়া। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডোমেস্টিক ভ্রমণের মাধ্যমে সরকার চাইছে ১ ট্রিলিয়ন ভাট কোষাগারে ঢোকাতে।
থাইল্যান্ড এমনই একটি দেশ যেখানে সারা বছর পর্যটকদের পা পড়ে। কিন্তু অতিমারির কামড় যে এদেশের ব্যবসাকে মাটি করার তালে থাকবে সেটা কে জানত? তাই ফুকেত, পাটায়া বা ক্র্যাবি আইল্যান্ডে থাইল্যান্ডবাসীদের পা পড়াটাও খুব জরুরি। তবে যত যাই হোক পর্যটনপ্রেমীদের কাছে থাইল্যান্ডের গুরুত্ব কমবে না। বরং উত্তরোত্তর বাড়বে। তাই ঘুরে আসার ফেভারিট ডেসটিনেশন হিসেবেও থাইল্যান্ড থাকবে ওপরের দিকেই।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ