Daily
তাহলে কি এবার সময় এসেছে আমেরিকার দাদাগিরি কমার? এবার কি সময় এসেছে ডলারের ঔদ্ধত্য ফিকে হবার? নেপথ্যে কাজ করছে আরবিআই-এর মোক্ষম স্ট্র্যাটেজি? আন্তর্জাতিক স্তরে কামাল করবে ভারতীয় রুপি? ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং হবে ভারতীয় রুপির মাধ্যমে? কেন বিশ্বের ৩৫টি দেশ ভারতীয় রুপির মাধ্যমে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে চাইছে? এশিয়ায় ছড়ি ঘোরানোর জন্য চিনকে মোক্ষম জবাব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে ভারত? মোদী সরকারের জমানায় ভারতীয় অর্থনীতি এই কামাল করছেই বা কি করে? আর পাকিস্তানের রিঅ্যাকশন-ই বা সেক্ষেত্রে কি হবে? আহ…অনেক প্রশ্ন, অনেক কিউরিওসিটি। তাই না? চিন্তা করবেন না। সব প্রশ্নের উত্তর খোলসা হবে এই প্রতিবেদনে।
আরবিআই যে মোক্ষম চাল দিয়েছে, তার শুরুটা কিন্তু ডিজিটাল লেনদেনের বাড়বাড়ন্তের সময়। ২০১৬ সালে যখন নতুন ৫০০ টাকার নোট বাজারে আসে, একইসঙ্গে ২০০ টাকা এবং ২ হাজার টাকা নোট ছাপানো শুরু হয়, তারপর থেকেই ডিজিটাল লেনদেন ধীরে ধীরে ভারতবাসীর আগ্রহ বাড়াতে শুরু করে দেয়। গুগল পে, ফোন পে, পেটিএমের মত ইউপিআই অ্যাপ ভারতবাসীরা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। অতিমারি সময়ে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে দেশবাসী। এখানেই বলি, ডিজিটাল লেনদেন বাড়তে শুরু করায় ভারত চালু করে ভিম বা ভারত ইন্টারফেস ফর মানি। আর সকল অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে এনপিসিআই বা ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া। ২০২০ সালের গোড়ার কথা। ভারতীয় ইউপিআই-কে সম্মতি জানায় সিঙ্গাপুর। তারপর ভুটান। তারপর ২০২২ সালে নেপাল, আরব এবং ফ্রান্স ইউপিআই লেনদেনে গুরুত্ব দেয়। এই তালিকায় সর্বশেষ সম্মতি জানায় ওমান। স্বাভাবিকভাবেই, বুঝতে পারা যাচ্ছে যে ভারতের এই যে ফিনানশিয়াল স্ট্র্যাটেজি- সেটা বিশ্বের দরবারে গ্রহণযোগ্যতার জায়গায় পৌঁছতে পারছে। কিন্তু আরবিআই অতিরিক্ত ডলার নির্ভরতা কমানোর একটা সুযোগ খুঁজছিল। সেই সুযোগ তৈরি করে দেয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। রাশিয়ার ওপর মার্কিন মুলুক নিষেধাজ্ঞার ফরমান জারি করলে, প্রথম মস্কোই রুপিকে বৈদেশিক বাণিজ্য চালানোর জন্য গুরুত্ব দিতে শুরু করে। রাশিয়াই ছিল সেদিক থেকে প্রথম বিদেশি রাষ্ট্র। এবার সেই পথেই পা বাড়াচ্ছে আরও ৩৫টি দেশ! অর্থাৎ তারাও চাইছে মার্কিনী ছড়ি ঘোরানো বন্ধ হোক। কারণ এদের মধ্যে বেশিরভাগ দেশে ডলারের রিজার্ভ কমছে ভালোরকম। আর যে কারণে বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য বিদেশি মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ভারতীয় রুপিকে। তার মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, মরিশাস, বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার। রয়টার্স বলছে, কিউবা, লুগজেমবার্গ, সুদান এবং তাজিকিস্তানও ভারতীয় রুপিকেই বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য গুরুত্ব দিতে চাইছে। সেটা ভারতের অর্থনীতির ইতিহাসে নিঃসন্দেহে দারুণ একটা মাইলস্টোন তৈরি করতে চলেছে। আর যে-কারণে ভস্ট্রো অ্যাকাউন্ট চালুর বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে চারটি দেশ। অবশ্য ইতিমধ্যে মরিশাস এবং শ্রীলঙ্কা-কে এই ভস্ট্রো অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি আরবিআই দিয়ে দিয়েছে। ভস্ট্রো হচ্ছে বিশেষ একটি অ্যাকাউন্ট যার মাধ্যমে মার্কিনী ডলারকে থোরাই কেয়ার করে বাণিজ্যিক লেনদেন করা যাবে ভারতীয় মুদ্রায়। মানে, কোন ভারতীয় ক্রেতা যদি বিদেশি কোন ব্যবসায়ীর সঙ্গে টাকা লেনদেন করে, তখন সেটা ভস্ট্রো অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পরে প্রয়োজনীয় টাকা কেটে নেওয়া হবে ভস্ট্রো অ্যাকাউন্ট থেকে।
এখন বিষয়টা হচ্ছে, কোন মুদ্রাকে আন্তর্জাতিক লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম করে তোলার খুব একটা সহজ কাজ নয়। স্পেশ্যালি যখন ডলারের সঙ্গে মুখোমুখি প্রতিযোগিতায় নামতে হয়। কারণ ডলারই হল বিশ্বের সবথেকে বড় রিজার্ভ কারেন্সি। এই সময়ে দাঁড়িয়ে যখন একজন ভারতীয় ক্রেতা এবং ইউরোপের কোন বিক্রেতার মাধ্যমে ব্যবসা হবে তখন ভারতের ক্রেতাকে প্রথমে টাকা ডলারে কনভার্ট করাতে হয়। বিক্রেতা সেই ডলারকে কনভার্ট করবে ইউরোতে। আর এই কনভার্সনের জন্য একটা খরচ পড়বে, যেটা যাবে আমেরিকার কাছে। ফলে দুই দেশের থেকে টাকা নিয়ে লাভবান হবে আমেরিকা। ভারত আর এই সাবেকি বিষয়টার গুরুত্ব কমাতে চাইছে। আর যে কারণে ভারত টার্গেট করছে এমন দেশগুলোকেই যাদের মার্কিন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে কম। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যদি ভারতীয় রুপির গুরুত্ব বাড়ে তাহলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় রুপি ডলারের সঙ্গে টক্কর দিতে নামতে পারে আসরে। ভারতীয় রুপির গুরুত্ব বাড়ছে দেখে পড়শি দেশ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছেন কতটা কঠিন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের অর্থনীতি। একইসঙ্গে তারিফ করতেও ছাড়ছে না তারা। এদিকে ডলার নির্ভরতা যখন কমবে তখন ফেডেরাল রিজার্ভের ঘুম যে ছুটবে, সেটা কি আর বলার প্রয়োজন রয়েছে? কারণ ডলার কতটা ছাড়া হবে আর কতটা ধরা হবে, সেটা সম্পূর্ণ ঠিক করে ফেডেরাল রিজার্ভ। রুপিকে হাতিয়ার করতে পারলে ভারতকে তখন ডলার কেনার জন্য রুপি বিক্রির ক্রেতা খোঁজার প্রয়োজন পড়বে না। আন্তর্জাতিক স্তরে রুপির ডিম্যান্ড আরও বাড়বে, ভারতীয় রুপির সঞ্চয় অনেকটা বাড়বে বলেই মনে করছেন দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক মহল। এর ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এসে যাবে সুবর্ণ সুযোগ। আরবিআই-এর মোক্ষম স্ট্র্যাটেজির বিষয়টা ছড়িয়ে দিন প্রত্যেক দেশবাসীর কাছে। সঙ্গে অর্থনীতির খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের চ্যানেল বিজনেস প্রাইম নিউজে।
জীবন হোক অর্থবহ