Daily

আজ ১৩ তম আন্তর্জাতিক শিশুকন্যা দিবস। ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ এই ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই বছরের থিম হল “ইনভেস্ট ইন গার্লস রাইটসঃ আওয়ার লিডারশিপ, আওয়ার ওয়েল বিইং”।
কিন্তু এই বিশেষ দিনটি ঢাক ঢোল পিটিয়ে উদযাপন হলেও ভাল আছে কি আমাদের শিশু কন্যারা? নিজেদের ক্ষমতা, অধিকার বুঝে নেবার জন্য কি আমরা তাদের যথাযথ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি? একুশ শতকে এসে পৌঁছে সারা বিশ্ব জুড়ে লিঙ্গসাম্য নিয়ে অনেক হইহই, প্রচার হলেও এখনও কন্যাভ্রুণ হত্যা,নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার মত ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। শিক্ষা,স্বাস্থ্য,পুষ্টি র দিক থেকে এখনও সমাজের শিশুকন্যারা বহু ক্ষেত্রেই বঞ্চিত। আজও ঘরে ঘরে কন্যা সন্তান ও পুত্র সন্তানের মধ্যে বৈষম্য চোখে পড়ে। লেখক, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিকরা বারবার করে নারীমুক্তির কথা, নারী অধিকারের কথা বললেও আমাদের সমাজের এই থেমে থাকা চাকা যেন কিছুতেই গড়াতে চায় না। অন্তত পরিসংখ্যান তো সেই কথাই বলছে। National family health survey-5 অনুসারে আজ এই দেশে বালিকা বধুর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লক্ষ। সারা বিশ্বে যত নাবালিকা বিবাহ হয় তার ৪০% হয় এদেশেই। আর পশ্চিমবঙ্গে এই হার ৪১.৬%, যা হল দেশের মধ্যে শীর্ষ। আবার নাবালিকা মাতৃত্বের হার এই রাজ্যে ১৬%, যেখানে জাতীয় হার ৭% এর কিছুটা বেশি।
নারী হল সৃষ্টির প্রতীক। নারী ছাড়া সৃষ্টির কথা ভাবাই যায় না। কাজী নজরুল ইসলাম বহু আগেই লিখে গেছেন “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যানকর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”। কিন্তু আজও বহুক্ষেত্রে নারী তার যোগ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। আজও এই শতকে এসেও বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও অথবা কন্যাশ্রী প্রকল্পকে সঙ্গী করে নারীদের অধিকার স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। আজও নারীর ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য, তার অধিকার রক্ষার জন্য আমাদের বিশেষ একটি দিনের সাহায্যের দরকার পড়ছে। তাই দেশের শিশুকন্যাদের সুরক্ষিত ভবিষ্যতের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে সেই দিনের যেদিন তারিখকে ছাড়িয়ে গিয়ে ভেতর থেকে মানুষের বোধ জাগ্রত হবে। পথ কিন্তু কঠিন,পথ ভীষণ দীর্ঘ। তবু নতুন ভোরের আশা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ