Daily
একদিনের একটি কৃষি প্রশিক্ষণ শিবির। কিন্তু সেটাই চাষিদের কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কোন চাষে আয়ের পথ চওড়া হবে বেশি, কোন চাষে প্রয়োজন কতটা উন্নত প্রযুক্তি- এই সব জিনিস ক্ষুদ্র চাষিদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। আর বিদেশি ফুল হলে তো কথাই নেই। আধিকারিকদের সরাসরি পাশে দাঁড়ানোটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে দিনের শেষে সুবিধে হয় কৃষকবন্ধুদের। সেই ছবিটাই ধরা পড়ল বনগাঁ মহকুমা উদ্যানে। যেখানে পৌঁছে গেছিল বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরা।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং উদ্যান পালন বিভাগ আয়োজন করে একদিনের এক কৃষক প্রশিক্ষণ শিবিরের। বনগাঁ মহকুমা উদ্যান পালন কৃষক বাজারে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে চাষিদের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকটা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বিভিন্ন বিদেশি ফুলের। মূলত বনগাঁ, বাগদা এবং গাইঘাটা এই তিনটি ব্লক পিছু ২৫ জন করে মোট ৭৫ জন কৃষকদের হাতে অটোমেটিক স্প্রেয়ার মেশিন তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন ফুল চাষ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যা এই সকল চাষিদের ভবিষ্যতে লাভজনক ফুল চাষ করতে আরও অনেক বেশী আগ্রহী করে তুলতে পারবে।
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকরা জানতে পারলেন কিভাবে বিদেশি ফুলের চাষ করা সম্ভব উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে। একইসঙ্গে উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে ফলের চাষ করা সম্ভব সেই বিষয়েও তাঁরা জানতে পারলেন। স্বাভাবিকভাবেই, কৃষক প্রশিক্ষণ শিবির একজন কৃষকের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়ে বললেন, ক্ষুদ্র চাষি অরবিন্দ কুণ্ডু।
তবে এই ধরণের শিবির শেষ নয়। পরবর্তীকালে কৃষি আধিকারিকদের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই সকল ব্লকে ফুল চাষের উপর আজ থেকে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়। আগামী অর্থবর্ষে ফুল চাষের ওপর এই ধরণের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হবে। শুধু রজনীগন্ধা, গাঁদা বা গোলাপ নয়। তারসঙ্গে জারবেরার মতন বিদেশি ফুল চাষের দিকেও মনোযোগী করানোর চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা। আর সবথেকে বড় কথা, এর ফলে ব্লক স্তরের কৃষকদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে আগ্রহ। আর যে কারণে কৃষকদের মধ্যে আজ কৃষি আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই।
বিক্রম লাহা
উত্তর ২৪ পরগনা