Story
এক কেজি টোম্যাটোর দাম ১৪০০ টাকা। এক কেজি মুরগির দাম ২ হাজার টাকা। ভয় পাবেন না কারণ এটা ভারতের বাজারদর নয়। আজ থেকে চার বছর আগে এই বাজারদর ছিল দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ ভেনেজুয়েলায়। সেই সময় মুদ্রাস্ফীতির হার পৌঁছে গিয়েছেল ৩২ হাজার শতাংশে। যা কার্যত অর্থনীতির ইতিহাসে বিরলই বটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমত বেহাল অবস্থা তৈরি হয় ভেনেজুয়েলার সরকারের। ভেঙে পড়ে সেই দেশের অর্থনীতি। কিন্তু যে দেশের অর্থনীতির সিংহভাগ তেলের ওপর নির্ভরশীল সেই দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য এভাবে ভেঙে পড়ল কেন? তার জন্য বন্ধুরা ঘুরে আসতে হবে অতীত থেকে।
ভেনেজুয়েলার আবিষ্কার বিখ্যাত ইতালিয় নাবিক এবং ঔপনিবেশিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের হাত ধরে ১৪৯৮ সালে। ১৫২২ সালে স্প্যানিশরা তাদের উপনিবেশ স্থাপন করে। এরপর বেশ কয়েকটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অবশেষে ১৮৩০ সালে ভেনেজুয়েলা স্পেনের হাত থেকে বেরিয়ে আসে। ১৮৫৪ সালে শেষ হয় ক্রীতদাস প্রথার। তারপর পাহাড়, সমুদ্র, নদী, জঙ্গল, চাষাবাদ এবং খনিজ সম্পদে ভরপুর এই দেশটি ক্রমশই আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হতে শুরু করে। দেখা যায় ১৯৩৫ সালে ভেনেজুয়েলার জিডিপি দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়তে শুরু করে। এই দেশের মাটি এবং সমুদ্রের নিচে যত পরিমাণ খনিজ তেল মজুত আছে, তা পৃথিবীর অন্য যে কোন দেশের চেয়ে অনেকটা বেশি। মনে করা হয় গোটা পৃথিবীর ২০% তেল মজুত রয়েছে এই দেশে। আমরা সবাই জানি, তেল উৎপাদনকারী সংগঠনের নাম হল ওপেক। আর এই সংগঠনের অন্যতম মাথা ভেনেজুয়েলা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যে দেশটার ভাণ্ডারে এতো পরিমাণ তেল রয়েছে সেই দেশটাকেই এমন আর্থিক দুরবস্থার শিকার হতে হল কেন?
৮০ এবং ৯০ এর দশকে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক টালবাহানায় দেশটি একেবারে জর্জরিত হয়ে পড়ে। ৯২ সালে শুরু হয় ব্যপক দাঙ্গা। তখন ভেনেজুয়েলার মানুষ এমন একজনকে চাইছিলেন যে তাদের ত্রাতা হয়ে ধরা দেবে। ১৯৯২ সালে ভেনেজুয়েলার স্বপ্ন দেখার জন্য বিদ্রোহ তৈরি করেন উগো চাভেজ। দু’বছরের জন্য কারাবাসে যেতে হয়, সেটাই রাতারাতি নায়ক বানিয়ে দেয় চাভেজকে। তারপর বামপন্থী জোটের প্রতিনিধিত্বে উগো চাভেজ যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তারপর থেকেই দেশটার আর্থিক বৃদ্ধি চোখে পড়ে ভালোরকম। চাভেজের শাসনকালে ভেনেজুয়েলা তেলের দর বাড়াতে শুরু করে। যে কারণে দেশটি আর্থিকভাবে ভীষণ সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে। শুরু হয় বলিভিয়ান বিপ্লব। সাম্যবাদ, সমাজকল্যাণ এবং দারিদ্র্যতা দূরীকরণের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব কিছুতেই জনসাধারণকে বিশেষ সুবিধা দিতে শুরু করেন চাভেজ। যে কারণে চাভেজ ক্রমশ সেই দেশের খুব জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন। পরিবেশ, বিজ্ঞান সবদিকে বড় রকমের আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন চাভেজ পররাষ্ট্রনীতির খোলনলচে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব, অন্যদিকে লেনিনপন্থী কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী হতে শুরু করায় চাভেজ চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন সাম্রাজ্যবাদের শক্তিতে। ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা একদিকে বাড়তে থাকে। অন্যদিকে জর্জ বুশকে সরাসরি গাধা বলার কারণে তীব্র রোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। ক্রমশই দেখা যায় বুর্জোয়া শ্রেণি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
তবে সাম্যবাদের কথা বললেও চাভেজ ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করতে পারেন না। বাড়তে থাকে অপরাধ, দুর্নীতি, মুদ্রাস্ফীতি। এদিকে তেলের উপর নির্ভর করেই ফুলেফেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। উদার অর্থনীতি এবং এফডিআইয়ের উপর নির্ভর করেই দেশটি তখন রফতানির থেকে বেশি আমদানির উপরে নির্ভরশীল হতে থাকে। একদিকে পুঁজিবাদ এবং সাম্যবাদের মতভেদ। অন্যদিকে তেলের উপরে পুঁজিবাদীদের লোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে। আর যে কারণে দেখা যায় ক্রমশই তীব্র বৈপরীত্য তৈরি হয়। যা সেই দেশের সাধারণ মানুষকে ফেলে দেয় প্রবল দোটানায়। ভেনেজুয়েলায় আর্থিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ